1. nagorikit@gmail.com : দৈনিক সময়ের বার্তা : Nagorik IT
  2. admin@doiniksomoyerbarta.com : Admin1 :
  3. mdjoy.jnu@gmail.com : Editor :
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন
  •                      

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

মো. মারুফ হোসেন
  • আপডেট করা হয়েছে সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৪
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

সময়টা ছিল ১৯৬৯সাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেওয়ার সময় স্লোগান দেয়া হলো, বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো বাংলাদেশ স্বাধীন কর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম মূল ভিত্তি ছিল জাতিসত্তা ভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদ। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ নিজেদের জন্য একটা স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

কিন্তু প্রশ্ন হলো৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে কি শুধু বাঙালিই অংশগ্রহণ করেছিল?
মহান মুক্তিযুদ্ধে উপজাতি বা অন্যান্য জাতিসত্তার কেউ কি সেদিন অংশগ্রহণ করেনি? যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের শুধু বাঙালিই অংশগ্রহণ করে থাকে তাহলে উক্যচিং মারমা রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ করার জন্য বীর বিক্রম খেতাব কিভাবে পেলেন? অর্থাৎ সংগ্রামের অন্যতম মূল ভিত্তি ও চেতনার বাইরে অসংখ্য
অবাঙালি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।
মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করার পর, বাংলাদেশের গণপরিষদে যখন বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হচ্ছিল তখন জাতিগত পরিচয় বাঙালিত্ব গ্রহণের সময় তিনি বিতর্কে অংশগ্রহণ করে বলেছিলেন আমি একজন চাকমা। একজন মারমা যেমন কখনো চাকমা হতে পারবে না তেমনি একজন চাকমাও বাঙালি হতে পারবে না। আমি একজন চাকমা, আমি বাঙালি নই। আমি একজন বাংলাদেশী, আপনিও একজন বাংলাদেশী। মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার যুক্তি সঠিক হলেও সেদিন তার কথা শোনার কেউ ছিল না!
কথিত আছে সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপজাতিদের বাঙালি হবার পরামর্শ দিয়েছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের পরামর্শে বাংলাদেশে বসবাসকারী ৫৭ টি উপজাতি রাতারাতি বাঙালি হয়ে গেল। তৈরি হলো জাতিগত বিভ্রান্ত। কেননা উপজাতিরা যদি বাঙালি হয়ে যায়, তাহলে চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, মনিপুরী এরা কারা?
স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু যে ভাষাভিত্তিক ন্যাশনালিজম কায়েমের চেষ্টা করেছিলেন যার ভিত্তি ছিল এথনিক বাঙালি এবং বাংলাভাষী জাতি রাষ্ট্র। যা বাংলাদেশে বসবাসরত ৫৭ টি
অবাঙালি উপজাতিদের অস্বীকার করা হলো।একই সাথে বাংলা ভাষাভাষী ভারতীয়দের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হলো। যার ফলাফল কোন অসন্তোষ দেখা দিল, এবংবাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয়দের প্রভাব বৃদ্ধি পেতে থাকলো।

জাতীয়তাবাদ যে কখনো কখনো সাম্প্রতিকতায় রূপ নিতে পারে তার উদাহরণ হল বাঙালি জাতীয়তাবাদ। কেননা সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম করা হলে যদি সাম্প্রদায়িকতা হয়, তবে সংখ্যা গরিষ্ঠের ভাষা কিংবা জাতীয়তা সংখ্যালঘুদের উপর চাপিয়ে দিলে সাম্প্রদায়িকতা হবে না কেন?
যেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের আগ্রাসন থেকে সংখ্যালঘুদের রক্ষা করা। সেখানে রাষ্ট্র নিজেই সাম্প্রদায়িকতাকে পক্ষাবলম্বন করল। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠের জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি সংখ্যালঘুদের উপর চাপিয়ে দিল। সুতরাং জাতিসত্তা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও সেই রাষ্ট্রের সকল জনগোষ্ঠীর
সমবিকাশের তা ইতিবাচক নাও হতে পারে। আধুনিক কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থাই অসর্বজনীন জাতীয়তাবাদের উপযোগিতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিগত বৈশিষ্ট্যের ধারণের পরিবর্তে আধুনিক সিভিক ন্যাশনালিজম তৈরি করেন। যার মূল ভিত্তি হলো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসরত সকল নাগরিক মিলে একটি জাতি রাষ্ট্র গঠন করা। ফলশ্রুতিতে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের ভিন্নতার কারণে কেউ জাতীয়তাবাদের বাইরে থাকলো না। ধর্ম, ভাষা, বর্ণ ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ একই সময়ে সকল নাগরিককে একত্রিত করতে পারে না বরং নানাবিধ বৈষম্য তৈরি করে। বাংলাদেশের মতো একাধিক ভাষা ও নৃতাত্ত্বিক দেশে সিভিক ন্যাশনালিজম উত্তম। তাত্ত্বিক দিক থেকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কোন নতুন ধারণা নয়, কারণ এটি উদারনৈতিক জাতীয়তাবাদ। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনবোধ,
খাদ্য-অভ্যাস,পোশাক-পরিচ্ছদ, মূল্যবোধ, আশা-আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি নানান ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের অধিবাসীরা একদিকে যেমন ভারতীয় বাঙ্গালীদের থেকে স্বতন্ত্র ও আলাদা।
জাতীয়তাবাদের ধারণা যে ইউরোপ থেকে সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে,সেই ইউরোপের দেশ জার্মানিতে হিটলার বর্ণের ভিত্তিতে জার্মান জাতীয়তাবাদ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। যা বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বর্বরতা দেখিয়েছে। আবার বহু ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার দেশ হয়েও সিভিক ন্যাশনালিজমের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গণতান্ত্রিক দেশ। কেননা যেখানে অন্যান্য জাতীয়তাবাদ মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করে সেখানে সিভিক ন্যাশনালিজম পারে সবাইকে একই প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে।
সুতরাং একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সকল অধিবাসীদের সমবিকাশে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আধুনিক রাষ্ট্রে উদারনৈতিক জাতীয়তাবাদী সকল জনগোষ্ঠীর কল্যাণ নিশ্চিত করে। আধুনিক বিশ্বে জাতিসত্তা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ থেকে উদারনৈতিক জাতীয়তাবাদে উত্তরণের দৃষ্টান্তও কম নয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দূরদৃষ্টির মাধ্যমে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, বলেই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এক্ষেত্রে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মেধার সুস্পষ্ট প্রকাশ ঘটেছে।

লেখক: ব্যাংকার ও সমাজকর্মী

hmmaruf1991@gmail.com

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

বিনা অনুমতিতে ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লংঘন ।

কারিগরি সহযোগিতায়- নাগরিক আইটি