ভয়ের ২০০ দিন ইংরেজিতে (200 days Dread) ছিল ব্রিটিশ ফিলিস্তিন ইতিহাসের ২০০ দিনের একটি আতঙ্কের সময়কাল। ১৯৪২ সালের মে মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত চলা জার্মান আফ্রিকা কোর জেনারেল রোমেল-এর নেতৃত্বে সুয়েজ খাল এবং ফিলিস্তিনের দিকে অগ্রসর হয়েছিল। সম্ভাব্য জার্মান আক্রমণের বিরুদ্ধে যীশুভের আত্মরক্ষার প্রয়োজন হবে কিনা সেই প্রশ্ন দুইবার উঠেছিল। ইহুদি জনগোষ্ঠী এই আক্রমনের আশঙ্কায় ছিল যদিও শেষ পর্যন্ত আক্রমণটি ঘটেনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমসাময়িক সময়ে ফিলিস্তিনে বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘যীশুভ’ বলে ডাকা হতো। ১৯৪২ সালে জার্মান জেনারেল রোমেল মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ সম্পত্তি দখলের হুমকি দিলে যীশুভরা বুঝতে পারে, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে গেলে তাদের সামনে খুব বেশি প্রতিরোধের সুযোগ থাকবে না। এই আশঙ্কা থেকে পরবর্তী ২০০ দিনকে ভয়ের দিন বলা হয়। দ্বিতীয় এল আলাইমেইনের যুদ্ধে মিত্রবাহিনী বিজয়ী হবার পর ভয়ের ২০ দিন শেষ হয়েছিল।
‘হাগানাহ’ ছিল একটি ইহুদি প্রতিরক্ষা গোষ্টি। ভয়ের ২০০ দিনের পরিপ্রেক্ষিতে হাগানাহ একটি চূড়ান্ত প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল, যদি ব্রিটিশ বাহিনী পিছু হটে তবে তারা ফিলিস্তিনের উত্তর অঞ্চলে শক্ত অবস্থান নিবে। এই পরিকল্পনাকে বলা হয় ‘মাসাদা অন দ্যা কারমাল’ হাগানাদের মূল পরিকল্পনা ছিল নাৎসি বাহিনীকে প্রতিহত করা। হাগানাদের ভয়ের মূল কারণ ছিল এই ভেবে যে, নাৎসি বাহিনী জার্মানীর ন্যায় ফিলিস্তিনেও একটা ইহুদী নিধন চালাবে। যীশুভদের ভীত হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল? ওই সময়ে ইহুদী হত্যার জন্য জার্মান বাহিনীর টাস্কফোর্স মিশর ইউনিটকে ফিলিস্তিনে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে উত্তর আফ্রিকান ইহুদিদের গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ইতিহাসবিদ হাইম সাদনের মতে, নাৎসি বাহিনীর ইহুদি নির্মূলের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিউনিসিয়ার এসএস কমান্ডার ওয়াল্টার রাউফের নথিপত্র থেকে প্রমাণিত যে, তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ওয়েহরমাখটকে সহায়তা করা। তবে তাদের ওপর একটি পরিকল্পনা ছিল ইহুদিদের শ্রম শিবিরে রাখা। এই সময়কে ইহুদি ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়। পরবর্তীতে হাভিভ কেনান এই ঘটনাগুলো নিয়ে একটি বই লিখেন যার নাম ছিল ‘মাতাইম ইয়ামেই হারাদাই’। সেই বইয়ের আলোকে ওই সময়ের ঘটনাগুলোকে ভয়ের ২০০ দিন (প্রায় ৭ মাস) শব্দটি প্রতিষ্ঠিত হয়।